নিজস্ব প্রতিবেদক
র্যাব-১৩ এর অভিযানে গাইবান্ধার বল্লমঝাড়ে শিশু কুলসুম হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার।
বাংলাদেশ আমার অহংকার'- এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানি, যৌতুকসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। হত্যার মতো মারাত্মক সামাজিক অপরাধের ক্ষেত্রে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
বাদী মোছা: রেজিনা বেগম (৪৯) এর দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায় যে, বাদী ভিকটিম কুলসুম এর মাতা এবং তিনি মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ভিকটিম সর্দারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বল্লমঝাড় এর ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ভিকটিম অন্যদের ভয় দেখানোর জন্য কবরস্থানে লুকিয়ে থাকা, গাছের ডালে বসে থাকা, বাড়ির পাশে ডোবার মধ্যে অস্বাভাবিক গোসল করার মত কাজ করতো। ভিকটিম এবং ধৃত আসামির বাড়ি পাশাপাশি অবস্থিত। ধৃত আসামি প্রায়ই ভিকটিমের বাড়িতে যাতায়াত করতো এবং ভিকটিমকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি উত্যক্ত করতো। ঘটনার কয়েকদিন আগে ভিকটিমের সাথে ধৃত আসামির তর্কাতর্কি হয়। গত ২৪/১১/২০২৫ ইং তারিখে বাদীর প্রতিবেশী মোঃ লিয়ন ভিকটিমকে তার বাড়িতে ডাকতে আসলে শয়নকক্ষের বাঁশের ধরনার সাথে ওড়না পেচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরবর্তীতে লিয়ন বাদীর দেবরের ছেলে মোঃ মেহেদীকে জানালে তারা দুজন মিলে ভিকটিমকে নিচে নামিয়ে স্থানীয় লোকজনকে সংবাদ দেয়। বাদী লোক মারফত সংবাদ পেয়ে বাড়িতে এসে তার মেয়ের লাশ মাটিতে শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পান। পরে থানা পুলিশকে সংবাদ দেওয়া হলে পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এই ঘটনায় গত ২৪/১১/২০২৫ তারিখ গাইবান্ধা সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়। ময়না তদন্তে রিপোর্ট প্রকাশ পাওয়ার পর বাদী জানতে পারেন যে, তার মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরবর্তীতে গত ১৩/০৫/২০২৬ ইং তারিখ রাত ১২.১০ ঘটিকায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে পেনাল কোড আইনের ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-১৭।
ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হত্যাকান্ড হওয়ায় এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়|
এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, সিপিসি-৩, গাইবান্ধা এর আভিযানিক দল ১৩/০৫/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ০৬.৩০ ঘটিকায় গাইবান্ধা জেলার সদর থানাধীন খামার বল্লমঝাড় গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে ধৃত আসামির নিজ বসতবাড়ী হতে গাইবান্ধা জেলার সদর থানার চাঞ্চল্যকর কুলসুম হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোঃ ইব্রাহিম হাসান লিমন শেখ (২১), পিতা-মোঃ জহুরুল ইসলাম শেখ, সাং-খামার বল্লমঝাড় থানা-গাইবান্ধা সদর, জেলা-গাইবান্ধা’কে মামলা রুজুর ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য ধৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।